২ চশমার দাম ৫০ কোটি টাকা!
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

প্রতিদিন ডেস্ক

প্রকাশ ২০২১-১০-০৮ ১২:৪৪:৫৫
২ চশমার দাম ৫০ কোটি টাকা!

দুইটি চশমা উঠছে নিলামে। শুনে মনে হতেই পারে, এ নিয়ে মাতামাতির কী আছে? কিন্তু সেই চশমা দুইটির একেকটির দামই যদি হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা, ভ্রু কুঁচকানোটাই তো স্বাভাবিক। তবে ভ্রু কুঁচকালেও এরকম দামেই বিক্রি হতে পারে দুইটি চশমার একেকটি। আর হবেই না কেন— একেবারে সেই মুঘল আমলের চশমা বলে কথা! 

হ্যাঁ, অজ্ঞাত এক ভারতীয়ের কাছে পাওয়া গেছে এমন দুইটি চশমা, যেগুলোর ফ্রেম তৈরি হয়েছে সেই মুঘল আমলে। আর এতে যে লেন্স ব্যবহার করা হয়েছে, তার বয়সই ১৩০ বছরেরও বেশি। নিলাম কোম্পানি সোথবাই বলছে, ১৮৯০ সালের দিকে এই ফ্রেমে বসানো হয়েছিল লেন্স। আর সেই লেন্সও যে সে লেন্স নয়, একেবারে হীরা কেটে বানিয়ে নেওয়া! অন্যদিকে এই চশমা দুইটির যে ফ্রেম, তা রীতিমতো রত্নখচিত। এর চারপাশজুড়ে ব্যবহার করা হয়েছে হীরা আর পান্না। 

বিবিসির খবর বলছে, চলতি অক্টোবরেই হংকং আর লন্ডনে এই এক জোড়া চশমা প্রদর্শন করা হবে। আর মাসের শেষ ভাগে গিয়ে লন্ডনে নিলামে তোলা হবে এগুলো। নিলাম কোম্পানি বলছে, একেকটি চশমার দাম হতে পারে ২০ লাখ থেকে ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত! অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম হবে ১৭ কোটি টাকা থেকে ২৯ কোটি টাকা! সর্বোচ্চ দাম না মিললেও মাঝামাঝি এসে ২৫ কোটি টাকায় এটি বিক্রি হবে— রয়েছে এমন আশাবাদ। সে হিসাবে দুই চশমার দাম পড়বে ৫০ কোটি টাকা। 

সোথবাইয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় অঞ্চলের চেয়ারম্যান এডওয়ার্ড গিবস বলেন, এই এক জোড়া চশমা অসামান্য কিছু। কারিগরি দিক থেকে যেমন এতে রয়েছে নিখুঁত নিপুণতার ছাপ, তেমনি এর নির্মাণশৈলীও অসামান্য। এটি যিনি তৈরি করিয়েছিলেন, তার রুচিরও প্রশংসা করতে হয়। এই এক জোড়া চশমা এমন কিছু, যা এর আগে কেউ কখনো দেখি। 

চশমা জোড়া ঠিক কোন সময়ে তৈরি, সে বিষয়ে একেবারে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। তবে মুঘলরা যখন উপমহাদেশে রাজত্ব করছিল, সেই ষষ্ঠদশ বা সপ্তদশ শতকে এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুঘলদের স্থাপত্যশৈলী ও শিল্প নিদর্শনগুলোর সঙ্গেও এর সাদৃশ্য দেখছেন অনেকে। 

নিলাম কোম্পানি বলছে, চশমার ফ্রেম দুইটি হীরা ও পান্নায় খচিত। এই রত্নগুলো মানের দিক থেকে অনেক উন্নত এবং খাঁটি। আর রত্নগুলোর যে আকৃতি, তা সেগুলো সাধারণত রাজরাজরাদের জন্যই বরাদ্দ থাকত। 

সোথবাই বলছে, চশমা দুইটি লেন্স বড় কোনো হীরকখণ্ড থেকে কেটে নিয়ে বানানো। দক্ষিণ ভারতের গোলকুন্ডা দুর্গ থেকে সম্ভবত হীরকখণ্ডগুলো নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে যে পান্নাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে দুই চশমায়, সেগুলো পানির ফোঁটার আকৃতির। সেগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া কলম্বিয়ান এমারাল্ডের বড় কোনো খণ্ড থেকে বানিয়ে নেওয়া। 

হীরা কেটে লেন্স বানানোর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছে সোথবাই। নিলাম কোম্পানিটি বলছে, সাধারণ লেন্স কেবল দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেই সহায়তা করে। তবে হীরা কেটে বানানো এই লেন্সের পেছনে সম্ভবত দর্শনগত ভাবনা কাজ করেছে। কেননা হীরা আত্মাকে আলোকিত করতে পারে বলে বিশ্বাস অনেকের। একইভাবে যেকোনো ধরনের ক্ষত সারিয়ে তোলা ও অশুভ শক্তিকে দূর করার ক্ষমতা পান্না ধারণ করে বলেও অনেকের বিশ্বাস। 

সোথবাই বলছে, প্রথম শতাব্দীর বিখ্যাত রোমান লেখক প্লিনি দ্য এলডারসের ‘ন্যাচারাল হিস্টোরি’ বইয়ে এ ধরনের চশমার উল্লেখ দেখা যায়। রোমান সম্রাট নিরোর শিক্ষক সেনেকা আলোর প্রতিসরণ ও প্রতিফলনসহ অন্যান্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। ওই সময় নিরো যখন গ্ল্যাডিয়েটরদের প্রতিযোগিতায় হাজির হতেন, তখন এরকম সবুজ রঙের বহুমূল্য রত্ন থেকে তৈরি করা লেন্স ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা দেখতেন। চশমার ধারণার উৎপত্তি ওই সময়েই বলেই মনে করা হয়।

সিলেট প্রতিদিন/এমএ

ফেসবুক পেইজ