বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

হালনাগাদ ছাড়াই চলছে ওয়েবপোর্টাল : সিলেট বিভাগ নিয়ে তথ্য বিভ্রাট

হালনাগাদ ছাড়াই চলছে ওয়েবপোর্টাল : সিলেট বিভাগ নিয়ে তথ্য বিভ্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডিজিটালের ছোঁয়া লাগেনি সিলেটের বিভাগীয় ওয়েব পোর্টালে। এর ফলে সিলেট বিভাগের ওয়েবসাইটে ভিজিট করা মাত্রই সংরক্ষিত তথ্য পিলে চমকে উঠার মতো। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভাগীয় ওয়েব পোর্টালের এনালগ অবস্থা অনেকটাই পীড়াদায়ক। সেই সাথে তথ্য সেবা কিংবা বিভাগ সম্পর্কে জানাতে আগ্রহীরা ক্রমেই বঞ্চিত হচ্ছে কাঙ্খিত সেবা থেকে।

পোর্টালে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী সিলেট বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজতো দুরের কথা কোনো বিদ্যালয় পর্যন্ত নেই। মুসলিম সম্প্রদায়ের নামাজ আদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান কোনো মসজিদ নেই। ইসলামি শিক্ষাদীক্ষার জন্য সিলেটে নেই কোনো মাদ্রাসা। হযরত শাহজালাল ইয়েমনি, হযরত শাহপরাণ, সিলেটের প্রথম মুসলমান হযরত গাজী বুরহান উদ্দিনসহ অসংখ্য ওলি-আউলিয়া সিলেটের মাটিতে সমাহিত হলেও নেই কোন মাজার।

মোঘল আমলের প্রাচীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহ’র অবস্থান হলেও পুরো বিভাগজুড়ে খোঁজে পাওয়া গেলো না কোন ঈদগাহ। পুরো সিলেটজুড়ে আপনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মন্দির, আশ্রম কিছুই পাবেন না। সিলেট বিভাগের তথ্য-উপাত্ত, সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকার সর্বশেষ আপডেট পেতে আপনি যদি ইন্টারনেট সংযুক্ত স্মার্টফোন দিয়ে ক্লিক করেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই www.sylhetdiv.gov.bd/
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশ হিসেবে ২০২১ ভিশন বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করছেন। ঠিক সেই মুহুর্তে খোদ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোর ওয়েবপোর্টালগুলো ডিজিটালের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। খোদ বিভাগীয় কমিশনারের ওয়েব পোর্টালে অতিরিক্ত কমিশনার, রাজস্ব, সার্বিকদের প্রোফাইলে ক্লিক করলে শুধু ছটি দেখা যায়, কর্মসূচি, দায়িত্বের বিবরণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা অপশন থাকলেও এগুলোতে ক্লিক করলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়না।
অসংখ্য-অগণিত জ্ঞানী-গুণি ও প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ যাারা লাল-সবুজের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরেছেন এমন সব খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বের তীর্থস্থান সিলেট। এতদসত্ত্বেও সিলেট বিভাগের ওয়েব পোর্টালের ‘বিভাগ সম্পর্কিত’ ক্যাটাগরিতে প্রখ্যাত ‘ব্যক্তিত্ব’ অপশনে ক্লিক করলে কোনো কিছুই নেই।
সিলেট সফরে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছিলেন, সিলেটকে বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল নগরী ঘোষণা দেওয়া হবে। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনও তথ্যপ্রযুক্তিখাতে সিলেটকে আরো উন্নত করার কথা বলেছেন। সিলেট বিভাগের ওয়েবপোর্টাল এ ভিজিট করে সিলেটের বিভিন্ন তথ্য দেখলে মনে হয় সরকারের কোনো কর্তব্যক্তি এসব ওয়েবসাইট হালনাগাদ হচ্ছে কিনা তদারকি করা তো দুরের কথা ভিজিটও করেন না।
এই ওয়েব পোর্টালের ‘স্থানীয় সরকার’ ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি সিলেট সিটি করপোরেশন’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নাম মেহেদী হাসান বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে পোর্টালে দেওয়া মোবাইল নাম্বারে ০১৭১৫১০৬২০৭ কল দিলে কাউসার নামের এক যুবক ফোন রিসিভ করে বলেন, ভাই এটা মেহেদী হাসানের নাম্বার নয়, আমি বরিশাইল্লা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মেহেদি হাসান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) হিসেবে ২০১০ সালের ২২ নভেম্বর ২২থেকে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিসিকের এই দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আরো ৬ জন এ পদে সমাসীন হয়ে দায়িত্ব পালন করে গেলেও সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ সিলেট বিভাগীয় কমিশনার এর এই পোর্টালে এরকম তথ্য বিভ্রাট রয়েছে। মমতাজ বেগম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে ওয়েবপোর্টাল বলছে অথচ এই দায়িত্বে আছেন মো. বদরুল হক।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুধাময় মজুমদার এর নাম দেওয়া আছে অথচ এই গুরুদায়িত্বে আছেন ডা. জাহিদুল ইসলাম।
ওয়েব পোর্টাল থেকে পাওয়া ০১৭১১-৮২০২৩২ এই নাম্বারে কল দিলে সুধাময় মজুমদার বলেন, তিনি ২০১৫ সালের আগস্টের দিকে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট রেড ক্রিসেন্টর ডাইরেক্টর। তথ্য বিভ্রাট নিয়ে তিনি বলেন, প্রায়ই অনেক লোক আমার মুঠোফোনে কল করেন। আমি সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি অবগত করেছি। এটা খুব বিরক্তিকর মনে হয়। ডিজিটাইলেশন’র ছোঁয়া সরকারি ওয়েব পোর্টালে এখনো লাগেনি। তাহলে কীভাবে দেশ ডিজিটাল হবে।
যারা কর্মরত ছিলেন তাদের নাম পদবী ওয়েব পোর্টালে রাখা যায়। তবে এটাও একটি ক্যাটাগরিতে পড়ে। প্রাক্তণ কর্মকর্তাদের নাম-পদবী দিয়েও কিন্তু এই তথ্যটা ওয়েবে সংরক্ষণ রাখা যায়। তা না করে আজ এতোটা বছর হালনাগাদ ছাড়াই চলছে ওয়েবপোর্টাল।
সৈয়দ হোসেন জামাল তিনি সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) শাখার দায়িত্বে আছেন বলে সরকারি এই পোর্টাল মারফত জানা যায়।
তার ব্যবহৃত এই মুঠোফোন ০১৭১১-৯৬৭৯১০ নাম্বারে কল দিলে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই থেকে চাকুরির বয়স সীমা শেষ হওয়াতে তিনি অবসর নিয়েছেন বলে জানান। বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি প্রাইভেট চাকুরি করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ দায়িত্বে আছেন আলী আকবর।

সিলেট’র অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মৃণাল কান্তি দেব বলেন, আমাদের ওয়েব পোর্টাল তো হালনাগাদ করা আছে। তারপরও তথ্যবিভ্রাটের বিষয়টি আমি দেখবো।
এব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আছলাম উদ্দিন বলেন, ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদ করার জন্য আমরা সংশিষ্ট ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। এবছরও আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সিলেটের প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবপোর্টাল আপডেট করাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24