বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন

সুনামগঞ্জে ধান শুকানোর ধুম চলছে রাস্তায়

সুনামগঞ্জে ধান শুকানোর ধুম চলছে রাস্তায়

সিনিয়র প্রতিবেদক : ধানকাটা শেষ হয়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে। এখন ধান শুকানো চলছে পুরোদমে। তারপর নিজেদের বছরের খাবার সংগ্রহ রেখে সেই ধান বিক্রী করা হবে হাটে। ধান শুকানোর পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলেও সমস্যা নেই হাওরবাসীদের। কারন, গাড়ি সচরাচর না চলায় রাস্তাগুলো অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা পড়ে থাকে। সুযোগ বোঝে হাওর থেকে সরাসরি ধান কেটে সেই ধান মাড়াই করা হয় কখনো রাস্তায়। আবার সেই ধান শুকানোও হয় রাস্তায়। গেলো রোববার সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেলো বেশিরভাগ অঞ্চলে। ছবিতে ধান কাটার এই রাস্তাটি সুনামগঞ্জ-শাল্লা সড়কের লৌল্লারচর এলাকা থেকে ধারণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বোরো মওসুমে সুনামগঞ্জের ১১ টি উপজেলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ৯ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন।

পাগলা-জগন্নাথপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের খাশিলা নামক স্থানে ধান শুকাচ্ছেন লাদেন মিয়া নামের এক নিম্ন আয়ের কৃষক। তাঁর বাড়ির উঠোনে পর্যন্ত খালি জায়গা নেই। সেখানে জায়গা না হওয়ায় তিনি সড়কে এসে ধান শুকাচ্ছেন।  তিনি জানালেন, এবার তাঁর ফসলি জমিতে ধান ভালো হয়েছে। এখন ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের কারণে তিনি কিছুটা ধান শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই সড়ক গুলে দেখা গেেছ খুব সতর্কতার সাথে সড়কে লাদেন মিয়াসহ অন্যানরা কষ্টের ফসল ধান মাড়াই, শুকানো ও খড় শুকানোর কাজ করছেন।
এদিকে যান চলাচলে কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হলেও হাসি মুখে তা মেনে নিচ্ছেন যানবাহনের চালকেরা। এনাম আহমদ নামের এক চালক বলেন, ‘আমাদের সাময়ীক কিছু সমস্যা হলেও মেনে নিচ্ছি। কারণ আমরাও কৃষক পরিবারের সন্তান। যখন রাস্তায় পাকা ধান দেখি মনে আনন্দ লাগে।’

কৃষকেরাও নিজের বাড়ির উঠান বা চাতালের মতো করে ব্যবহার করছেন ব্যস্ততম এই সড়কগুলো।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম সিলেট প্রতিদিনকে বলেন, ‘হাওরে ধানকাটা প্রায় শেষ। এখন কৃষকরা ধান শুকাতে কাজ করছেন।’

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বশির আহমদ সরকার বলেন, ‘সুনামগঞ্জ কৃষি নির্ভর একটি অঞ্চল। এখানকার মানুষ কৃষকদের প্রতি সবসময়ই আন্তরিক। যাদের বাড়ির উঠোনে পর্যাপ্ত জায়গা খালি নেই তারাই সড়কে ধান শুকান। এতে চালকদের সাময়িক কষ্ট হলেও তারা তা হাসিমুখে মেনে নিচ্ছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24