সোমবার, ২৪ Jun ২০১৯, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

সিলেট চেম্বারে নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে আগামী সপ্তাহে

সিলেট চেম্বারে নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে আগামী সপ্তাহে

প্রতিদিন প্রতিবেদক :: সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হচ্ছে আগামী সপ্তাহে। সেই সাথে গঠন হচ্ছে আপীল বোর্ডও। সিলেট চেম্বারের নব নিযুক্ত প্রশাসক আসাদ উদ্দিন আহমদ এমন তথ্য জানিয়ে বলেন- নির্বাচন কমিশন কথা বলবে কাগজের ভাষায়। কারো মুখ দেখে ভোটার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বুধবার সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদকের সাথে আলোচনাকালে একথা বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত দিনে ভোটার তালিকা নিয়ে কি হয়েছে-সে বিষয়ে বর্তমানে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নেই। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য করনীয় সব কিছুই করবে নতুন নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোটার তালিকা প্রকাশ করাই হবে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম কাজ। সেই সাথে একটি সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন উপহার দেওয়াটাও নিজের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।

আসাদ উদ্দিন আহমদ গেলো ৯ জুন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৩০-০৫-২০১৯ তারিখ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে সিলেট চেম্বারের আগামী নির্বাচন আয়োজন করার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত নতুন কমিটির নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

এর আগে গেলো ৪ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ওবায়দুল আজম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১২০ দিনের জন্য আসাদ উদ্দিনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন আয়োজন করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার আদেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশের পর গেলো রোববার আসাদ উদ্দিন সিলেট চেম্বারের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, সিলেট চেম্বারের কমিটির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। এই মেয়াদের মধ্যে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন আয়োজন করতে না পারায় শূন্য হয় চেম্বারের শীর্ষ পদটি। ফলে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
ভোটার তালিকা ইস্যুতে সিলেট চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমণ্ত্রনালয় গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে এবং ভুয়া কাগজপত্রে অযোগ্য প্রায় ৪০ ভাগ ব্যবসায়ীকে ভোটার তালিকায় করার বিষয়টি প্রতিয়মান হয়। কিন্তু চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে করা আবেদন পত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে ৩ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করান।

এরপর চেম্বার অব কমার্সের নতুন নির্বাচনী বোর্ড ও আপীল বোর্ড গঠন করেন। এতে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন খানকে এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে আপীল বোর্ডের প্রধান করা হয়।

এ ঘটনার পর সংক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হন ব্যবসায়ী তাহমিন আহমদ। এর প্রেক্ষিতে চেম্বার নেতৃবৃন্দ ৩ মাস সময় বৃদ্ধির জন্য আদালতে রীট আবেদন করেন। গত ১৩ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল ডিভিশন সিলেট চেম্বারের সময় বাড়ানোর আবেদন সংক্রান্ত রিট খারিজ করে দেন। এর ফলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তিন মাস সময় বাড়ালেও আদালতের রায়ে আগামী ৩১ মে খন্দকার সিপার আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পর্ষদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে।

সিলেট প্রতিদিন/দেব্ররাদি/এসএ

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24