বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৭:৩২ অপরাহ্ন

সিলেটের টিউশন মিডিয়ার প্রতারণা ও হয়রানি

সিলেটের টিউশন মিডিয়ার প্রতারণা ও হয়রানি

সিলেট প্রতিদিনঃ সিলেট শহরে বিগত পাঁচ বছরে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু টিউশন মিডিয়া। বিজ্ঞাপনের নীতি’র জণ্য তাদের নাম এখানে উল্লেখ করছি না। নগরীর অধিকাংশ গলীতেই দেখা মিলে এদের সাইনবোর্ড, লিপল্যাট ,স্টিকার ইত্যাদি। সিএনজি কিংবা রিক্সার পেছন, রেস্টুরেন্ট কিংবা লাইব্রেরীর ডেস্ক কোথাও কমতি নেই এদের বিজ্ঞাপন, এর পাশাপাশি সব থেকে বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছে ফেসবুক।

পৃথিবীর সাড়ে সাতশ কোটি মানুষের মধ্যে যখন তার অর্ধ-শত ভাগ মানুষ অনলাইন নির্ভর সেখানে টিউশন মিডিয়ার একটা বিশাল নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে ফেসবুক। এই ফেসবুকেই রয়েছে সিলেটের টিউশন মিডিয়া গুলোর বড় বড় গ্রুপ। যেখানে কোন নতুন টিউশন আসলে বিস্তারিত লিখে শর্ত সহকারে নতুন পোস্ট দেয়া হয় আর খোঁজা হয় নতুন টিউটর। যার ফলে অদক্ষ শিক্ষক দিয়েই সন্তানকে পড়াতে হচ্ছে সিলেটবাসীর।

বিষয়টা আরেকটু পরিষ্কার করা যাক, টিউশন মিডিয়া গুলো তাদের বিজ্ঞাপন নিজেদের ফোন নাম্বার দিয়ে রেখেছে। কোন অভিভাবকের শিক্ষক প্রয়োজন হলে এদের ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয়। তারপর তারা দুর্ধর্ষ বাঘের মত বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে শিকারে নামে। আর এ শিকারে নিজ থেকেই ধরা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছেলে কিংবা মেয়ে। টিউশন মিডিয়া গুলো প্রতিটা নতুন টিউশনের সাথে জুড়িয়ে দেয় বড় মাপের ফি ,যা কিনা একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রীর পক্ষে বহন করা অধিক ব্যয় ও কষ্টসাধ্য।একটা টিউশন ২০০০ কিংবা ৫০০০/৭০০০ যাই হোক না কেন, এর বেতনের পরিমাণ হিসেবে থাকে টিউশনের মোট বেতনের ৭০% এবং সাথে তাদের ফর্মের দাম ৩০০টাকা। এবার এটাকে গাণিতিক ভাবে ব্যাখ্যা করলে পাওয়া যাবে, যদি ৫০০০ হয় তাহলে এর ৭০% আসে (৫০০০*৭০/১০০=৩৫০০+(ফর্ম ফি)৩০০=৩৮০০টাকা। এর মানে যদি এই ৫০০০টাকার টিউশন টা যদি ছাত্র/ছাত্রী নিতে ইচ্ছক তাহলে তাকে এই ৩৮০০টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এটা তাকে টিউশন টা নিশ্চিত করার পূর্বেই পরিশোধ করতে হবে।

এইযে, মিডিয়া গুলোর এতবড় কারসাজি তা সিলেটের প্রশাসনের চোখে পড়লেও তাদের আইনের দৃষ্টিপাত পড়েনি এদিকটায়। হয়তো তারাও এই মিডিয়া থেকে টিউটর নিয়ে নিজেদের সন্তানকে পড়াচ্ছেন।

গতবছর শাবির এক ছাত্রীকে কথিত এক টিউটর মিডিয়া টিউশন দিবে বলে এক বাসায় নিয়ে যায় আর তাকে শ্লানি হীনতার কাজ করার চেষ্টা করে। সে ছাত্রী এটা টের পেয়ে নবহু কষ্টে নিজেকে বাঁচিয়ে আনে। এছাড়াও কলেজের ছাত্রীদের হয়রানীও কম নেই এখানে। হয়রানী হচ্ছেন সিলেটের এমসি, মহিলা কলেজ সহ বেশ কলেজের ছাত্রী।

এবার ধরুণ, আপনি চাইলেন শাবিপ্রবির ছাত্র কিংবা ছাত্রী দ্বারা আপনার অষ্টম শ্রেণীর সন্তানকে পড়াবেন। এখন ঐ মিডিয়া কর্তৃপক্ষ শাবি শিক্ষার্থী দিতে অসক্ষম। এমতাবস্থায় সে কোন কলেজের ছাত্রীছাত্রী কে তার শর্তানুযায়ী পেলে তখন ঐ কলেজের ছাত্রছাত্রীকেই ভূয়া শাবি শিক্ষার্থী বানিয়ে আপনার বাসায় আপনার সন্তানের টিউটর হিসেবে পাঠাবে। এখন বিপদ টা কার? বিপদটা আপনারই কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীছাত্রী অন্যসজ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের থেকে আসলেই ভিন্ন। এরা লক্ষাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজের মেধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবার যোগ্যতা অর্জন করে । সেক্ষেত্রে আপনাকেই মানতেই হবে যে, আপনার সন্তানকে ভালভাবে পড়ানোর জণ্য তাদের মাথায় আসলেই কিছু না কিছু আছে। কিন্তু যখন টিউশন মিডিয়া সেখানে শাবি শিক্ষার্থীর বদলে আপনাকে এমসি কলেজ, মদন মোহন কলেজ কিংবা সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী দিয়ে দিল তখন আসলে আপনার আর সে কাঙ্খিত লখ্যে পৌঁছানোর একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।।

এই বিষয়গুলোতে সিলেট প্রশাসনের সদা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আশাকরি টিউশন মিডিয়ার এই হয়রানী এবং ধোকাবাজি থেকে রক্ষা পাবে সিলেটের অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24