বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ০৭:২১ অপরাহ্ন

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আ. ন. ম শফিকুল

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আ. ন. ম শফিকুল

সিলেট প্রতিদিন:: দিন থেমে থাকেনা। পৃথিবীটা একটা আসা যাওয়ার খেলা। সৃষ্টি হতে আজ অব্দি সেই খেলা চলছেই। এই আসাযাওয়ার নিরন্তন খেলার ভেতর যারা জন্ম নেন তাদের মধ্যে সব মানুষ নিজেদের পরিচয় ব্যতিক্রম করতে পারেননা। অধিকাংশই সাধারন জনগনের মাঝে বিলিন হয়ে যান। থেকে যান আড়ালে। হাতে গুনা কয়েকজন নিজগুনে হয়ে উঠেন অনন্য। যারা ইতিহাসে স্থান করে মেন তাদের সকলে সোনার চামচ মুখে দিয়ে পৃথিবী আলোকিত করেন না। এমন এক ব্যতিক্রম অতি সাধারন পরিবারে জন্ম নিয়েও দেশ ও জাতির কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়া আনম সফিকুল হক। নামই যার পরিচয় , নিজেই যিনি এক প্রতিষ্ঠান।

স্বাধীনতাত্তোর সিলেটের রাজনিতীতে এক আদর্শীক ব্যতিক্রমি মানুষ। গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন জীবন ও যৌবন দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ থেকে সিলেট বিভাগ আন্দোলন বা ভোটের অধিকারের আন্দোলন সব ক্ষেত্রে সামনের সারীর নেতা, নেতৃত্ব দিয়ে গেড়েন সুদির্ঘকাল। বিগত দশ বছর অসুখের সাথে লড়াই করে চলেছেন এই আজীবন সংগ্রামী দাপুটে নেতা , সৃজনশীল সমাজ কর্মী আজ অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর আশু রোগ মুক্তি কামনা করি।

যে যুগে রাজনৈতিক নেতা মানে ত্যাগ সেই যুগে শুরু আর যে যুগে নেতা মানেই কামাই সে যুগে অসুস্থ হয়ে বিছানায়।এককালের ডাকসাইটে আওয়ামীলীগ নেতা আনম সফিকুল হক। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে রাজনিতী শুরু করে উঠে এসেছিলেন জেলার সর্বচ্চো পর্যায়ে।প্রথমে ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক , সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি এবং জাতীয় পরিষদ সদস্য। ১৯৯৬ সালে দল ক্ষমতায় এলে শিল্প ব্যাংকের পরিচালক মনোনীত হন। দক্ষতা ও সততার সাথে সকল দ্বায়িত্ব পালন করেন।

ক্ষমতার এত কাছাকাছি থেকেও বিত্তশালীর লিষ্টে তাঁর নাম নেই। সম্পদের পাহাড় নেই তাঁর। ভাবা যায় ? চারিদিকে যখন ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ পকেট ভারীতে ব্যস্থ আনম সফিক তখন সংঘটনের কাজে ব্যস্ত।নেতার বাসায় গেলে এক কাপ চা সাথে কিছু একটা মুখে দিয়ে আসতে হয়। মানুষের নাম ঠিকানা তাঁর নখদর্পনে। সাধারন নেতা কর্মীর খোঁজ খবর নেওয়া প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু বলয় বা গ্রুপ সৃষ্টির রাজনিতীতে ছিলেন বিমুখ। আজ তিনি বিছানায় শুয়ে আছেন।

পারিবারিক জীবনে প্রচন্ড সুখী আনম সফিকুল হক

পুত্র কন্যা সকলকেই করেছেন প্রতিষ্ঠিত। দুই ছেলে ইংল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড প্রবাসী। তিন মেয়ে বিবাহীত সংসার করছেন সন্তানাধী সহ সিলেট , আমেরিকা ও ইংল্যান্ড। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের জন্য পরিবারের সদস্যরা কত কষ্ট করছেন আজও তারজন্য তারা তাই করছেন।

আমরা সকলকেই একদিন বিছানা নিতে হবে। অসুস্থ হয়ে কেউবা থাকব পড়ে। দলের নিবেদিত এই মানুষটি বা তারআওয়ামীলীগের আজ এই স্বর্ণ সময়ে চারীদিকে নেতারা ব্যবসা বানিজ্য করছেন। ধন- সম্পদে অগুনতি আজ ঐশর্যশালী বা বিত্তশালী। সিলেট আওয়ামী পরিবারের উচিত তার এই সিপাহশালারের পাশে দাড়ানো। তিনি দুঃস্থ নন কিন্তু সিলেট আওয়ামী পরিবার যদি তাঁর পাশে দাড়ায় এই মানুষটার মন কত বড় হবে ভাবেন ? সকলে মিলে তার জন্য কিছু করা যায়। সকলে মিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা দাবী জানানো যায়। সাহায্য মানে স্বীকৃতি , সম্মান। তাতে আমরা সকলেই বড় হই। বেলা শেষে যখন তিনি থাকবেন না তাঁর বাচ্চারা বলবে আমার বাবা রাজনিতী করে ভুল করেননি।

লেখক: তওহীদ ফিতরাত হোসেন
সাবেক ছাত্রনেতা

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24