সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ০২:০৯ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপে সব থেকে দীর্ঘ জাতীয় সঙ্গীত বাংলাদেশের!

বিশ্বকাপে সব থেকে দীর্ঘ জাতীয় সঙ্গীত বাংলাদেশের!

ক্রীড়া ডেস্ক :: ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলা ১০টি দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজবে প্রত্যেক ম্যাচ শুরুর আগে। তবে এই ১০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বাজবে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মূলত যার পরিমাপ করা হয়েছে ম্যাচ শুরুর আগে যে অংশটুকু বাজানো হয় শুধু তার ভিত্তিতেই। তাহলে জেনে নিন অন্য দেশের তুলনায় কত দীর্ঘ আমাদের জাতীয় সঙ্গীত। অবশ্য এই তালিকায় সবচেয়ে কম দৈর্ঘের জাতীয় সঙ্গীত ইংল্যান্ডের।

১০) ইংল্যান্ডঃ সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এই তালিকার দশম স্থান ব্রিটিশদের দখলে। তাঁদের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় মাত্র ৪০ সেকেন্ড। তবে ক্রিকেট মাঠে যুক্তরাজ্যের জাতীয় সঙ্গীত ‘গড সেভ দ্য কুইন’ গাওয়া হলেও জাতি হিসেবে ইংলিশদের জাতীয় সঙ্গীত আবার আলাদা।

৯) ভারতঃ মাত্র ৫২ সেকেন্ড সময় নিয়ে সবচেয়ে কম দৈর্ঘ্যের জাতীয় সঙ্গীতের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। দেশটির সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ভাষা হিন্দি হলেও জাতীয় সঙ্গীত কিন্তু বাংলায় কম্পোজ করা। রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ গানটি ছাড়াও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দেমাতরম গানটিও সমমর্যাদায় জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি লাভ করে। তবে মাঠে রবীন্দ্রনাথের লেখা গানটিই গাওয়া হয়।

৮) অস্ট্রেলিয়াঃ অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত ‘অ্যাডভান্স অস্ট্রেলিয়া ফেয়ার’ মোট ৫৫ সেকেন্ড সময় বাজানো হয়। তাদের জাতীয় সঙ্গীত অনেক উৎসাহব্যঞ্জক শব্দে সাজানো। অনেকে মনে করেন, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের শিরোপা জয়ে তাদের জাতীয় সঙ্গীতেরও ভূমিকা আছে।

৭) নিউজিল্যান্ডঃ এক মিনিটের চেয়ে সামান্য বেশি দৈর্ঘ্য নিয়ে সপ্তম আবস্থানে রয়েছে কিউইরা। তাঁরা ‘গড ডিফেন্ড নিউজিল্যান্ড’ গানটি বাজায় ক্রিকেট ম্যাচের পূর্বে।

৬) জিম্বাবুয়েঃ নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীতের প্রায় কাছাকাছি দৈর্ঘ্য নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে জিম্বাবুয়ের জাতীয় সঙ্গীত “লিফট হাই জিম্বাবুয়ে’স ব্যানার”। যদিও এই দৈর্ঘ্য নির্ভর করে গানটির ভার্সনের উপর। বিভিন্ন উপলক্ষে শোনা, এনডেবেলা এবং ইংরেজি এই তিন ভাষায় গাওয়া হয় জিম্বাবুয়ের জাতীয় সঙ্গীত।

৫) পাকিস্তানঃ ক্রিকেট ম্যাচের আগে পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত ‘কওমী তারানা’ প্রায় দেড় মিনিট বাজানো হয়। ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার দিনে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত একপ্রকার উৎসবের জন্ম দেয়।

৪) ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাতীয় (!) সঙ্গীত একেবারেই আলাদা। কারণ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনো দেশ নয়। ক্রিকেটের স্বার্থে কয়েকটি দেশের জোট মাত্র। ফলে আদতে ক্রিকেট মাঠে তারা কোনো জাতীয় সঙ্গীত গায় না। বরং এর বদলে উইন্ডিজ ক্রিকেট কর্তারা বার্বাডোজ, গায়ানা, জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাকো, লিওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং উইন্ডওয়ার্ড দ্বিপপুঞ্জের জন্য ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি গান কম্পোজ করেছে। ‘র‍্যালি রাউন্ড দ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ শিরোনামের গানটি শুধুই ক্রিকেটীয় একতার জন্য, ভাবা যায়!

৩) দক্ষিণ আফ্রিকাঃ এই দেশটির জাতীয় সঙ্গীত সবচেয়ে বিচিত্র। দেশটির ভিন্ন ভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জাতীয় সঙ্গীত পাঁচটি ভাষায় কম্পোজ করা হয়েছে। তাদের জাতীয় সঙ্গীত ‘গড ব্লেস আফ্রিকা’ এমনকি মহাদেশের অন্য দেশগুলোর জন্য অনুপ্রেরণামূলক। প্রোটিয়াদের জাতীয় সঙ্গীতের দৈর্ঘ্য প্রায় ২ মিনিট। দুটি ভিন্ন জাতীয় সঙ্গীত এক করে কম্পোজ করা এই সঙ্গীতের মাঝখান থেকে মেলোডিও আলাদা, শেষও হয় ভিন্নভাবে।

২) শ্রীলঙ্কাঃ ক্রিকেটের মাঠে জাতীয় সঙ্গীতের দৈর্ঘ্যের বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা। প্রায় আড়াই মিনিট দৈর্ঘ্যের জাতীয় সঙ্গীতের লিরিক ও সুর বাজায় এশিয়ান লায়ন্সরা।

১) বাংলাদেশঃ খেলার মাঠে নামার আগে প্রায় ২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড সময় বাজানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই সঙ্গীত টাইগারদের আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হওয়ার শক্তি জোগায়।

নিউজটি শেয়ার করুন






© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24