সোমবার, ২৪ Jun ২০১৯, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

পরিকল্পনামন্ত্রীর অবদান:দৃশ্যমান নোয়াখালী-জামলাবাজ সেতু

পরিকল্পনামন্ত্রীর অবদান:দৃশ্যমান নোয়াখালী-জামলাবাজ সেতু

ছায়াদ হোসেন সবুজ :: বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের একান্ত প্রচেষ্টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত জয়কলস ইউনিয়নের পূর্ব-পশ্চিমের মিলন সেতু ‌‌‌‘‘নোয়াখালী বাজার-জামলাবাজ সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনের পরপরই দ্রুত গতিতে চলছে ব্রীজ নির্মাণের কাজ।

সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলেই পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা কমবে উপজেলা সদরে আসার ক্ষেত্রে, তেমনিভাবে পূর্বাঞ্চলের মানুষেরও যাতায়াত ব্যবস্থাও হবে সহজ। তাদেরকে আর কষ্ট করে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। শুধু নোয়াখালী-জামলাবাজ নয় সেতুটি নির্মাণের ফলে মির্জাপুর, হাসনাবাজ, ফতেপুর ও মানিকপুরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও হবে সহজতর। শিক্ষা ও বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আসবে আমূল পরিবর্তন।

পশ্চিম অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করেই সেতু স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিগত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান “নোয়াখালী বাজার জামলাবাজ সেতু” নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন। এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেতুর বাস্থাবায়নও হচ্ছে দ্রুত গতিতে। সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ায় পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী- জামলাবাজ এলাকার কালনী নদীর উপর নির্মাণাধীন এই সেতুটিতে প্রায় ১৩ কোটি ৯৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ২৮৩ টাকা ব্যয়ে হবে। সেতু নির্মাণের কাজ করছে ঢাকার”নবারুণ ট্রেডার্স লিমিটেড “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

জামলাবাজ গ্রামের জুয়েল মিয়া বলেন, সেতুর কাজ দৃশ্যমান দেখে অনেক ভালো লাগছে। পরিকল্পনামন্ত্রীর জন্যই আমরা শতবছরের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। তিনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করেছেন। সেতুটি আমাদের জন্য উন্নয়নের স্বর্গ স্বরূপ।

হাসনাবাজ গ্রামের আব্দুল আলিম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমরা মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। সেতুটি হয়ে গেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে সেতু দৃশ্যমান দেখে শান্তি পাচ্ছি। আল্লাহ যেন আমাদের মান্নান সাহেবকে নেক হায়াত দান করেন।

স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে আমাদের আর কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যেতে হবে না। নৌকার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না। আমাদের লেখাপড়ায় আর কোন বিগ্ন ঘটবে না। নিরাপদে লেখাপড়া করতে পারবো।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল বাছিত সুজন বলেন, সেতু নির্মাণের একমাত্র কৃতিত্ব আমাদের সুনামগঞ্জ রত্ন মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের। উনার জন্যই আমরা অবহেলিত পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ আলোকিত হচ্ছি। কত এমপি মন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেতু নির্মাণ করে দেবেন কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই। একমাত্র আমাদের মান্নান সাহেবই আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন। নোয়াখালী-জামলাবাজের মানুষ উনার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রয়েল আহমদ বলেন, সেতুটি নির্মাণ এই অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করবে। মানুষের শতবছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটবে। আর এর একমাত্র কর্ণধার আমাদের মন্ত্রী মহোদয়।

সচেতন মহলের মতে, নোয়াখালী-জামলাবাজ সেতু নির্মাণ সময়ের দাবি ছিল আর আজ তা বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।সেতুটি নির্মাণ হয়ে গেলেই পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের শতবছরের স্বপ্ন পূরণ হবে। আর এই সেতু নির্মাণ সরকারের উন্নয়নমুখী পরিকল্পনারই বাস্তবায়ন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুতই হচ্ছে। আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে এবং অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, নোয়াখালী-জামলাবাজের মানুষের কষ্ট লাগব হওয়ার পথে। পরিকল্পনামন্ত্রীর উন্নয়নের ছোয়ায় আলোকিত হতে চলেছে পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দোলন রানী তালুকদার বলেন, শুধু যে নোয়াখালী-জামলাবাজ সেতু হচ্ছে তা না। উপজেলাব্যাপী উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এই সেতু নির্মাণ পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। আমরা উপজেলাবাসী গর্বিত এমন যোগ্য নেতৃত্ব পেয়ে।

 

সিলেট প্রতিদিন/এম/এ

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24