সোমবার, ২৪ Jun ২০১৯, ০৬:৩১ অপরাহ্ন

ঝাড়ফুঁকেই কোটিপতি!

ঝাড়ফুঁকেই কোটিপতি!

সিলেট প্রতিদিন ডেস্ক :: মানিকগঞ্জে পানিপড়া, তেলপড়া আর মলম দিয়ে ব্যাথা, মানসিক প্রতিবন্ধী, অস্ত্রপাচার ছাড়া পাইলস রোগের চিকিৎসার নামে বিল্লাল পাগলা হয়েছেন কোটি টাকার মালিক।

ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, রক্ত পরীক্ষা, এক্সরে কিম্বা আলট্রাসনো গ্রামের দরকার নাই। সব ধরনের চিকিৎসার নিশ্চিত সমাধান দিচ্ছেন মানিকগঞ্জের বিল্লাল পাগলা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো শিক্ষা বা স্বীকৃত কোনো সনদ তার নেই। মানুষের সব রোগের চিকিৎসা তিনি তেলপড়া দিয়ে সারালেও নিজের পরিবারের চিকিৎসা করান বিশেষঞ্জ ডাক্তার দিয়ে।
 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ গ্রামে চারপাশে প্রাচীর দিয়ে চার একর জমির উপর গড়ে উঠেছে বেলাল পাগলার দরবার শরিফ। সরকারি বিআইডব্লিউটিএ ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ছিলেন তিনি। চাকরি থেকে অবসরের পর বেছে নেন লাভজনক এই ব্যবসা। আস্তানায় রয়েছে তেলপড়া, পানি আর মলমবিক্রির ২০টি দোকান। রয়েছে টিকেট সংগ্রহের কাউন্টার আর নারী ও পুরুষদের আলাদা হলঘরসহ রোগী দেখার স্থান। রয়েছে দ্বিতল একটি ভবন, ছোট আরো কয়েকটি ঘর। দরবারের পাশেই বড় একটা প্রাচির দিয়ে তার বাড়ি। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা যানবাহনে আসতে শুরু করে রোগীরা। এখানে ৩০ থেকে ১শত টাকায় বিক্রি হয় প্রতি বোতল পানি, তেল ও মলম।

সরেজমিনে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আল্লাহর দোহাই দিয়ে প্রথমে রোগীসহ সকলকে মিলাদ পড়ানো হয়। এরপর চলে নানাধরনের ভেলকিবাজি। আস্তানার কর্মীদের জড়োকরে চলে বন্ধনা। কানে কানে কথা, আর চিকিৎসার নামে প্রতারণার কেরামতি। তার ক্ষপ্পরে পরে  প্রতারনার স্বীকার হচ্ছে দেশের সহজ সরল বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। দেশজুড়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন তিনি। তারা রোগী সংগ্রহ করে আস্তানায় নিয়ে আসে। যে বেশি রোগী সংগ্রহ করতে পারে এমন দক্ষ কর্মীকে বানানো হয় দরবারের খাদেম।

হরগজ গ্রামের মোখলেছ মিয়া বলেন, বেলাল পাগলা আল্পদিনেই কোটিপতি হয়ে গেছে। দেশজুড়ে রয়েছে তার রোগী সংগ্রহের এজেন্ট। প্রতি শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এক থেকে তিন হাজার রোগী বিল্লাল পাগলার আস্তানায় এসে প্রতারিত হচ্ছেন।

সাটুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আখম নূরুল হক বলেন, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রধান যারা আছেন তারা সকলেই যদি বিষয়টি দেখেন তাহলে মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে। কারন বৈজ্ঞানিক মতে ঝাড়ফুঁক দিয়ে চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। এসবই অপচিকিৎসা। এতে রোগীর বড় ধরনে ক্ষতি হতে পারে।

সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রাজিব বিশ্বাস বলেন, এটা প্রতারণা। কৌশলে লোক ঠকানো হচ্ছে। সরল মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করা ছাড়া আর কিছুই না।সুত্র : ডেইলী বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © 2019 sylhetprotidin24